সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১০ আগস্ট) এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদস্থ বাংলাদেশ মিশনকে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দ্রুততম সময়ে নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সময় রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরের দিকে রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হন।
নিহতদের প্রাথমিক পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দুইজন এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একজন রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের মো. রুবেল প্রামানিক, পিতা- মো. সাইদুর রহমান; মো. কলিমউদ্দিন, পিতা- মৃত বজলুর প্রামানিক; মো. মোহন ও মো. সুমন পিতা-গুফফার প্রামানিক এবং খরস্রোতা গ্রামের মজিদুল পিতা- মজনু রয়েছেন। এছাড়া উজানপই গ্রামের ফরিদ, ডুবাই গ্রামের শুভ ও সুমন, বোয়ালা গ্রামের হৃদয়; নওগাঁ গ্রামের শাহিন; খরস্রোতা গ্রামের আব্দুল জলিল এবং সাদনগর গ্রামের সাগর নিহত হয়েছেন। একই উপজেলার মিনহাজের গ্রামের নাম প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামের শামিম এবং খাজুরা গ্রামের সাব্বিরও অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন। অপর নিহত ব্যক্তি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রাম, ডাংগাপাড়া এলাকার শ্যামল।
প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের পরিচয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
জানা গেছে, ওই কারখানাটিতে ১৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করতেন। ১৭ জনের মধ্যে ১৬ জন কেউ আগুনে দগ্ধ হয়ে আবার কেউ ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা গেছেন। বাকি একজন হাবিবুর রহমান সেলুনে শেভ করতে যাওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানায় ছিলেন না বলে বেঁচে যান।