Corporate Sangbad
জাতীয়

মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষায় খাতায় নাম্বার দেওয়া যায় না: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ন ·

শিক্ষকেরা উত্তরপত্র মূল্যায়নে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘মন খুলে গান গাওয়া যায় কিন্তু পরীক্ষায় খাতায় নাম্বর দেওয়া যায় না।’

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, শিক্ষকেরা উত্তরপত্র মূল্যায়নে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন কি না। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, মন খুলে নম্বর দেওয়া যায় না।’ চলতি বছরের সার্বিক ফলাফলকে বস্তুনিষ্ঠ ও সুন্দর উল্লেখ করে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনি খারাপ রেজাল্ট বলছেন কেন? রেজাল্ট তো সুন্দর হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, যেসব শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করবে, এবার তাদের খাতা সম্পূর্ণভাবে পুনঃপরীক্ষা করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সুন্দর ফলাফল হয়েছে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল থাকতে হয়েছে। কারণ নম্বর দেওয়ার বিষয়টি নির্দিষ্ট নিয়ম ও মানদণ্ডের ভিত্তিতেই করা হয়।

পরীক্ষায় ভালো করার প্রত্যাশা থাকলেও অনেক সময় শিক্ষার্থীরা আশানুরূপ ফল না পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা বোর্ডের ১৯৯৮ সালের যে আইন ছিল, সেখানে খাতা পুনর্মূল্যায়ন বা বিস্তারিত পরিদর্শনের কোনো সুযোগ ছিল না। আমরা সেই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনেছি। এখন পুনঃপরীক্ষণের জন্য আবেদনকারীদের খাতা পুরোপুরি রি-চেক করা হবে। মূল্যায়নে কোথাও কোনো ভুলত্রুটি বা বিচ্যুতি ধরা পড়লে তা শুধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের রেজাল্ট ঘোষণার কথা ছিল গত জুলাই মাসের ২০ তারিখ। কিন্তু বন্যা ও বিভিন্ন কারণে ফলাফল কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। এর জন্য আমরা দুঃখিত। আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

এ বছরর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। সেই হিসাবে এবার জিপিএ-৫ কমেছে।

ফলাফলে এবারও ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রদের তুলনায় ১ লাখ ৭ হাজার ৯৮২ জন বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রীরা এগিয়ে; ছাত্রদের চেয়ে ১১ হাজার ৪০১ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭১.৬৩ শতাংশ, জিপএ-৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৫৩ জন। রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৬৩.৬৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ হাজার ১১৩ জন। যশোর বোর্ডে পাসের হার ৬৬.২৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন।
 
কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৬৫.৪২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮১৪ জন। চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫৯.৪৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন। বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৬০.৩৫ শতাংশ, জিপএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৭৮ জন।
 
সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ, জিপএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন। দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৫৮.০৫ শতাংশ, জিপএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন। ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫৭.৩৯ শতাংশ, জিপএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭০০ জন।
 
এর আগে গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। জিপিএ-৫ কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
 
এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ–৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন পরীক্ষার্থী। অপরদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে এ বছর গড় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৬ হাজার ৭১৬ জন পরীক্ষার্থী।

এসএমএসে যেভাবে ফল জানা যাবে 

পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ও মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারছেন। ফল দেখা যাচ্ছে ‘eduboardresults.gov.bd’ (https://eduboardresults.gov.bd) এবং ‘educationboardresults.gov.bd’ (https://educationboardresults.gov.bd) ওয়েবসাইটে।

এছাড়া মুঠোফোনে যেকোনো সিম ব্যবহার করে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে। এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে প্রথমে SSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর রোল নম্বর লিখতে হবে। এরপর স্পেস দিয়ে YEAR লিখে ১৬১৪০ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে পরীক্ষার ফল জানিয়ে দেয়া হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এসএমএসের ফরম্যাট হবে SSC DHA ROLL YEAR। মাদরাসা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষার্থীদের ফল জানতে SSC MAD ROLL YEAR লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের SSC TEC ROLL YEAR লিখে একই নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।

প্রতিটি এসএমএসের জন্য ১ টাকা ৩৯ পয়সা চার্জ প্রযোজ্য হবে। এই চার্জের মধ্যে সব ধরনের কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল সারা দেশে একযোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। এতে অংশ নেয় ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীন দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি বোর্ডের অধীন পরীক্ষায় বসে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী।

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীন এসএসসির লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।

নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের বিধান থাকলেও এ বছর নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেছে।

এদিকে ফল প্রকাশের পর কোনো পরীক্ষার্থী তার প্রাপ্ত নম্বর নিয়ে অসন্তুষ্ট হলে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। আগামী ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে এ আবেদন নেয়া হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদনপ্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

যেভাবে ফল জানা যাবে
ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীরা তিনটি প্রধান উপায়ে ফল জানতে পারবেন

শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট
নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফলাফল দেখা যাবে।

কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট
eduboardresult.gov.bd এবং educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকেও ফল জানা যাবে।

এসএমএস
মুঠোফোনের যেকোনো সিম থেকে নির্ধারিত ফরম্যাটে ১৬১৪০ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানা যাবে।