Corporate Sangbad
আইন-আদালত

দুই বছরেও উদ্ধার হয়নি ৪ আগস্টের অবৈধ অস্ত্র, ৯ মামলার মধ্যে ৩টির চার্জশিট

প্রকাশিত: ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ন · সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জে জুলাই অভ্যুত্থানের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের অন্যতম দিন ছিল ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট। ওই দিনের ভয়াবহ সংঘর্ষে সাংবাদিক, পুলিশ সদস্য ও শিক্ষার্থীসহ মোট ২৯ জন নিহত হন। ঘটনার দুই বছর পার হলেও শহীদ পরিবারগুলোর শোক আজও কাটেনি। মামলার তদন্তে কিছু অগ্রগতি হলেও সংঘর্ষে ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র এখনও উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতাকর্মী ও অস্ত্রধারীরা অবস্থান নেন। একই সময়ে শহরের বিভিন্ন দিক থেকে আসা ছাত্র জনতার মিছিল প্রতিহত করতে সক্রিয় ছিল পুলিশ। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ, পুলিশ ও ছাত্র জনতার মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ পিছু হটে গেলে এসএস রোডসহ বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রধারীরা ছাত্র জনতার ওপর গুলি চালায়।

সেদিন জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে গুলিতে তিনজন নিহত হন। একই দিনে এনায়েতপুরে নিহত হন তিন শিক্ষার্থী। পরে থানা আক্রমণের ঘটনায় প্রাণ হারান ১৫ পুলিশ সদস্য। এছাড়া রায়গঞ্জে এক সাংবাদিকসহ ছয়জন নিহত হন। একই সময়ে সাবেক সংসদ সদস্য জান্নাত আরা হেনরীর বাসা থেকে আরও দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ওই দিনের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৯।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শহীদের সরকারি তালিকায় রয়েছে ১৩ জনের নাম। অন্যদিকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত এ ঘটনায় মোট নয়টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত রঞ্জু, সুমন ও লতিফ হত্যা মামলাসহ তিনটি মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করা হয়েছে। তবে পুলিশ সদস্য হত্যা মামলাসহ বাকি ছয়টি হত্যা মামলা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজরান রউফ বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রশ্ন নেই।

সিরাজগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাকিল হায়দার বলেন, এ ধরনের বিচারিক প্রক্রিয়ায় সময় লাগে। তবে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করারও সুযোগ রয়েছে। পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকি করা হবে।

এদিকে, দুই বছর পরও নিহতদের পরিবার স্বজন হারানোর বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছে। স্বামী, সন্তান কিংবা বাবাকে হারানো পরিবারগুলোর একটাই দাবি, শহীদ হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাদের প্রত্যাশা, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।