Corporate Sangbad
জাতীয়

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে আইনি ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

প্রকাশিত: ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ন ·

আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে কোনো গণমাধ্যম সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার বা প্রকাশ করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এর আগেও সরকার গণমাধ্যমের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছিল। কেউ যদি আগাম ঘোষণা দিয়ে বা প্রচার করে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং তা প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তবে তা সরাসরি আদালতের আদেশ অমান্যের শামিল হবে।

তিনি আরও বলেন, "আদালতের নির্দেশনা মানা প্রতিটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকারের মূল কাজ হলো আদালতের সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।"

ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে সরকারের বাধা দেওয়ার পক্ষে নন তিনি। তবে কেউ আদালতের এই আদেশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলে তিনি আদালতেই তা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কিন্তু আদালতের আদেশ বহাল থাকা পর্যন্ত তা সবার জন্যই বাধ্যতামূলক।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। ইতিমধ্যে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে এবং কূটনৈতিক ও বিভিন্ন পর্যায়ে একই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, শেখ হাসিনা বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এরপর তিনি প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনজীবী নিয়োগ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন। আদালতের চূড়ান্ত রায় সরকার মাথা পেতে নেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী এবং তার ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অতীতে তার বিভিন্ন আহ্বানের বাস্তব কোনো প্রভাব দেশবাসীর মাঝে দেখা যায়নি। বর্তমান সময়েও কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তাকে সমর্থন করতে পারে কিংবা অতীতের সুবিধাভোগী হিসেবে আত্মগোপনে থাকতে পারে। তবে রাজনৈতিকভাবে পুনরুজ্জীবিত হয়ে বর্তমান সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কোনো নৈতিক বা সাংগঠনিক শক্তি তাদের নেই।

একই সঙ্গে শেখ হাসিনার দেশত্যাগে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সেসময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ব্যতিক্রমধর্মী ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় এমন ঘটনা ঘটে থাকে। তাই এ মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে কারা কীভাবে জড়িত ছিল, তা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের উদ্যোগ সরকারের নেই।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিন পাওয়ার তথ্য সরকার দুই-তিন দিন পর জানতে পারার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, "এ বিষয়টি আমার জানা নেই এবং তাৎক্ষণিকভাবে এর ব্যাখ্যা দিতে পারছি না। বিষয়টি আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গোচরে আনব এবং কেন এই তথ্যের ব্যবধান (গ্যাপ) তৈরি হলো, তা খতিয়ে দেখা হবে।"

প্রশাসন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের প্রভাব সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রশাসনের মূল দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের একদিনে রাতারাতি পরিবর্তন করা বাস্তবসম্মত নয়। চাইলেই একসঙ্গে এত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি আরও যোগ করেন, কেবল বদলি করলেই চলবে না, নতুন কর্মকর্তাদের দক্ষতা অর্জনের বিষয়ও রয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনার সেবা ব্যবস্থা যাতে ভেঙে না পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াটাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

 

 

 

 

 

 

 

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো গণমাধ্যম শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, আগেও এ বিষয়ে সরকার গণমাধ্যমের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছিল। যদি কেউ আগাম প্রচার করে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং সেটি প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তবে সেটি আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে। আমরা আবারও সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেব, কেউ যেন এ ধরনের কাজ না করেন। আদালতের নির্দেশনা মানা প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সরকারের কাজ হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

ডা. জাহেদ উর রহমান ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে বলেন, আদালতের আদেশ না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া ঠিক হতো না। কেউ যদি আদালতের ওই আদেশের সঙ্গে একমত না হন, তাহলে তিনি আদালতেই গিয়ে সেই রায় চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতের আদেশ বহাল থাকবে, ততক্ষণ সেটি সবাইকে মেনে চলতে হবে।

শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যে দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার তো তাকে ফিরিয়ে আনতেই চায়। এজন্য ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে একই বার্তা দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এরপর তিনি আইনজীবী নিয়োগ, আত্মপক্ষ সমর্থনসহ আইনে নির্ধারিত সব সুযোগ পাবেন। আদালতের চূড়ান্ত রায় সরকার মেনে নেবে। সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাস করে এবং শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অতীতেও তার বিভিন্ন আহ্বানের বাস্তব কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। এখনও কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তাকে সমর্থন করতে পারেন কিংবা অতীতের সুবিধাভোগী হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় থাকতে পারেন। তবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে সরকারকে চ্যালেঞ্জ দেওয়ার মতো নৈতিক বা সাংগঠনিক শক্তি তাদের নেই।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এ মুহূর্তে কারা কীভাবে ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন, তা নিয়ে তদন্তের কোনো উদ্যোগ সরকারের নেই।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ বৃহস্পতিবার জামিন পাওয়ার তথ্য সরকার দুই-তিন দিন পর জানল কেন? একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর  উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়টি আমি নিশ্চিত নই এবং ব্যাখ্যা দিতে পারছি না। আমি বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেব এবং তার সঙ্গে কথা বলব। কেন এ ধরনের গ্যাপ হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হবে।

প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখনো আগের সরকারের প্রভাব রয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে ১৫ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সবাইকে একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে প্রশাসনসহ নানা প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষ এখনো রয়েছেন। চাইলেই এত মানুষকে একসঙ্গে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। ১৫ বছরে বিভিন্ন স্তরে যারা উঠে এসেছেন, তাদের পরিবর্তে নতুনদের আনতে সময় লাগে।

ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, শুধু বদলি করলেই হবে না, নতুন কর্মকর্তাদের দক্ষতা অর্জনেরও বিষয় রয়েছে। সরকার ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করছে, তবে এমনভাবে নয় যাতে রাষ্ট্রের সেবাদান ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। চেষ্টা শুধু নয়, কাজও চলছে। তবে এমনভাবে পরিবর্তন করা হচ্ছে না, যাতে ভঙ্গুর সিস্টেম আরও ধ্বংস হয়ে যায়। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।