Corporate Sangbad
জাতীয়

দীর্ঘদিন পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু, আগস্ট থেকেই শুরু হচ্ছে যাত্রা

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ন ·

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সরকারি উদ্যোগে আবারও মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই দেশটিতে নতুন কর্মীরা যেতে শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

 

তিন দিনের মালয়েশিয়া সফরের অগ্রগতি তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় বন্ধ শ্রমবাজার সচল করা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং অভিবাসন ব্যয় কমানোর বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, "সরকারের মূল লক্ষ্য দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো। এ কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের (বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড) মাধ্যমে স্বল্প খরচে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানো হবে।" 

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই নতুন কর্মীরা মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমানো শুরু করবেন এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা বাড়ানো হবে। সাধারণ কর্মীরা যাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করে নিরাপদ ও বৈধ উপায়ে বিদেশে যেতে পারেন, সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করছে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, কল্যাণ ও অধিকার সুরক্ষা: শুধু নতুন কর্মী পাঠানো নয়, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে কর্মরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ, অধিকার সুরক্ষা এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

টেকসই ব্যবস্থা: কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন

উপদেষ্টা বলেন, সরকার এমন একটি জনশক্তি রপ্তানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে যোগ্য প্রার্থীরা কোনো ধরনের হয়রানি বা অযৌক্তিক খরচ ছাড়াই বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, যা দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করবে।