Corporate Sangbad
সারাদেশ

মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ন · ময়মনসিংহ ব্যুরো

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ(মমেক)হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ জনে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডাঃ ঝন্টু সরকার।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মারা যাওয়া শিশুটি নেত্রকোনা জেলার বানুয়াপাড়া এলাকার তিন মাস বয়সী এক ছেলে। বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ২টা ১৫ মিনিটে হামের উপসর্গ নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টায় তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে আরও ১৮ শিশু হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে।

গত ১৭ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৩ হাজার ১০৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২ হাজার ৯৪৭ জন। মারা গেছে ৬৬ জন শিশু। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯০ জন শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে আরও ১৯ শিশু।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডাঃ মোঃ ওমর ফারুক বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নতুন ১৮ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।

তিনি বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বর্তমানে রোগীর চাপ ধীরে ধীরে কমছে। প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ার সংখ্যা কমেছে এবং অনেক শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে। তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তাই অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত হাসপাতালে এনে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে নবজাতকদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অত্যাধুনিক এনআইসিইউ সরঞ্জাম এরই মধ্যে এসে পৌঁছেছে। শিগগিরই এসব যন্ত্রপাতি স্থাপন ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করে পূর্ণাঙ্গভাবে সেবা চালু করা হবে। এনআইসিইউ চালু হলে সংকটাপন্ন নবজাতকদের আরও আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে, যা শিশু মৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।