Corporate Sangbad
জাতীয়

জ্বালানি সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন ·

চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে ফোনালাপে এই সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বুধবার (২৮ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার জ্বালানি সহযোগিতা চেয়ে একটি চিঠি পাঠানোর পর, বাংলাদেশ সময় আজ দুপুর ২টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ফোনালাপে যুক্ত হন। ফোনালাপের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন।”

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করেছেন।

জনগণের কষ্টের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে জনগণের দুর্ভোগ সরকার গভীরভাবে উপলব্ধি করছে। এই সংকট সমাধানে আমরা অত্যন্ত সজাগ রয়েছি এবং দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। জনগণ তাদের দুর্ভোগ লাঘবের দায়িত্ব আমাদের ওপর অর্পণ করেছে, যা মন্ত্রণালয়কে নিরলসভাবে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও কাজের অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।”

বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় সরকার চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

মালয়েশিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা যত দ্রুত সম্ভব প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা, কারিগরি পরামর্শ এবং সম্পদ ভাগাভাগির মাধ্যমে সহায়তার যেকোনো বিকল্প পথ আমরা খতিয়ে দেখছি। সমস্ত বিকল্পই আমাদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।”

একটিমাত্র উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখী জ্বালানি উৎস সন্ধানে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আজ আমরা যে ভোগান্তির শিকার হচ্ছি, তার মূল কারণ পর্যাপ্ত বিকল্পের অভাব এবং একটি এফএসআরইউর (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) কারিগরি ত্রুটি।”

তিনি আরও জানান, দ্বিপাক্ষিক জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছে।

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এফএসআরইউ নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবে একটি স্থলভিত্তিক (ল্যান্ড বেসড) এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে আমরা জাপানের সহযোগিতা চেয়েছি।”