সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না করায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) শাহজাদপুর চৌকি আদালতের বিচারক শানু আকন্দ এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের একটি বিচারাধীন মামলায় গত ২৪ মে আদালত ইউএনও সাবরিনা শারমিনকে বাদীর ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে নির্মাণাধীন সীমানা প্রাচীরের কাজ বন্ধ না করার নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের ওই আদেশ উপেক্ষা করে গত ২১ জুন তিনি সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলেন। এ ঘটনায় বাদীপক্ষ তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেন।
মামলার নোটিশ পাওয়ার পর ইউএনও আদালতে লিখিত আপত্তি দাখিল করেন। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আপত্তিপত্রে তিনি বিচারক ও আদালতের আদেশ সম্পর্কে ‘মিথ্যা, বানোয়াট, আক্রোশমূলক ও অবমাননাকর’ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে বিচারককে মামলার বাদীপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে আদালতের আদেশকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘যোগসাজশমূলক’ বলে কটাক্ষ করা হয়।
পরে আদালত এসব বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে ইউএনওকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি উপস্থিত হননি।
আদালতের আদেশে বলা হয়, প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে সাবরিনা শারমিন পেশাগত নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের পরিপন্থী আচরণ করেছেন। আদালত, বিচারক এবং আদালতের আইনানুগ আদেশ সম্পর্কে তার আপত্তিকর ও অশ্রদ্ধাশীল মনোভাব আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিপন্থী। এ ধরনের আচরণ নিরুৎসাহিত করতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনপ্রশাসন সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহজাদপুর চৌকি আদালতের নিরাপত্তার স্বার্থে নির্মাণাধীন সীমানা প্রাচীরের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরের জুন মাসের শুরুতে ইউএনও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। এছাড়া বিষয়টি নিজ কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তৎকালীন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অভিযোগ করেন বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের কাছেও মৌখিক অভিযোগ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইউএনও সাবরিনা শারমিন বলেন, মামলার আদেশের কপি এখনও হাতে পাইনি। তাই এ বিষয়ে এখন কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।