Corporate Sangbad
বিনোদন

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলা: ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৩:২০ অপরাহ্ন · বিনোদন ডেস্ক

প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) হত্যার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় এসেছে। তাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।  

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় বিচারক প্রতিবেদন জমার নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন।

আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

মামলার পটভূমি ও রিভিশন আবেদন

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকাই চলচ্চিত্রের যুবরাজ খ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহকে তার নিজ বাসভবনে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই সময় রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি অপমৃত্যু হিসেবে বিবেচিত হলেও সালমান শাহর পরিবার শুরু থেকেই এটিকে হত্যা বলে দাবি করে আসছে।  

পরবর্তীতে বাদীপক্ষের করা রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক গত বছর ২০ অক্টোবর রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় আনুষ্ঠানিক হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।  

এজাহারে উল্লেখিত আসামিবৃন্দ  

নতুন এই হত্যা মামলায় মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। 

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন-

সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হক

শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই  

লতিফা হক লুছি (সামিরার মা)

খলনায়ক আশরাফুল হক ডন

ডেবিট, জাভেদ ও ফারুক

মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি

আব্দুস ছাত্তার ও সাজু

রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)

এজাহারের চাঞ্চল্যকর বিবরণ

মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর এজাহারে উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর তারা জানতে পারেন সালমান ঘুমাচ্ছেন। এর কিছু সময় পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিমের ফোনে তারা জানতে পারেন সালমানের কিছু একটা হয়েছে।  

দ্রুত বাসায় ফিরে তারা দেখতে পান সালমান শয়নকক্ষে নিথর দেহ নিয়ে পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন, আর পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন। সালমানের মা চিৎকার করে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ জানান। হাসপাতালে নেওয়ার পথে সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান স্বজনরা।  

প্রথমে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান যে সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।  

আইনি লড়াই ও তদন্তের অগ্রগতি

সালমানের পিতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই সিএমএম আদালতে দরখাস্ত দাখিল করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর থেকে সালমানের পরিবারের পক্ষ থেকে তার মামা মোহাম্মদ আলমগীর ও মা নীলা চৌধুরী এই আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।  

আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালত অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের দায় থেকে অব্যাহতি সাপেক্ষে, এজাহারনামীয় ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ বহাল রেখেছেন। আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা না দিলে মামলার ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে নতুন নির্দেশনা আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।