Corporate Sangbad
আইন-আদালত

চেক জালিয়াতির মামলায় আলোচিত হরিদাসের এক বছরের সাজা কার্যকর

প্রকাশিত: ২২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ন · ময়মনসিংহ ব্যুরো

ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অর্থঋণ আদালত-৪, চেক জালিয়াতির মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত ব্যক্তি শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ওরফে তাওহীদ ইসলামের বিরুদ্ধে পূর্বে ঘোষিত এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের রায় কার্যকর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে তাকে ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অর্থঋণ আদালত-৪-এ হাজির করা হলে বিচারক ফারহানা আরজু পূর্বে দেওয়া সাজা কার্যকরের নির্দেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল।

আদালত সূত্র জানায়, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ সদর থানায় দায়ের হওয়া একটি চেক জালিয়াতির মামলার বিচার শেষে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আদালত তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও কারাদণ্ডের রায় দেন। তবে রায় ঘোষণার পর দীর্ঘদিন তিনি পলাতক থাকায় সাজা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে পূর্বের রায় কার্যকরের নির্দেশ দেন।

এদিকে, হরিদাস চন্দ্রকে আদালতে হাজির করাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা নিজ নিজ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পরে আদালত প্রয়োজনীয় আদেশ দেন।

চেক জালিয়াতির মামলার বাইরে হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া থানাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতারণার অভিযোগে আরও একাধিক মামলা রয়েছে।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলার জোড়বাড়াইয়া গ্রামের বাসিন্দা মজিবুর রহমান দাবি করেন, সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে হরিদাস তার কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ১২ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু চাকরি না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন।

মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি একা নই, আমাদের এলাকায় আরও অনেক মানুষ চাকরি, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও প্রভাব খাটানোর আশ্বাসে তার কাছে লাখ লাখ টাকা দিয়েছেন। আমরা সবাই ন্যায়বিচার চাই।’

এর আগে, গত ১২ জুলাই রাতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি মামলায় হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেফতার করে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮২ ফুট উচ্চতার একটি রামমূর্তি নির্মাণের কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে হরিদাস চন্দ্র ব্যাপক আলোচনায় আসেন।