Corporate Sangbad
অর্থ-বাণিজ্য

শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ শিল্প গ্রুপের ৭৬ হাজার কোটি টাকা অবরুদ্ধ

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ন ·

আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারসহ ১০টি বিশেষ শিল্প গ্রুপের দেশে-বিদেশে থাকা মোট ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে ৫৭ হাজার কোটি এবং বিদেশে ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন জানান, অর্থপাচার তদন্তে গতি আনতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারসহ এই ১০টি গ্রুপকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত ১১টি যৌথ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৯৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএফআইইউ প্রধান বলেন, "অর্থ ফেরত প্রক্রিয়ার কাজ চলমান আছে। আশা করছি, এ বছরের শেষ নাগাদ দেশবাসীকে এ বিষয়ে সুসংবাদ দিতে পারব।"

সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা বিএফআইইউয়ের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিগত অর্থবছরে সন্দেহজনক লেনদেনের রিপোর্ট জমা পড়ার হার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৩০ হাজার ১৯৯টি সন্দেহজনক রিপোর্ট পাওয়া গেছে, যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩৪৫টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সন্দেহজনক রিপোর্টের সংখ্যা বেড়েছে ১২ হাজার ৮৫৪টি।

প্রাপ্ত রিপোর্টের মধ্যে ২০ হাজার ৫২৪টি সন্দেহজনক লেনদেন এবং ৯ হাজার ৬৭৫টি সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য রয়েছে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিলে দেশের ব্যাংকিং খাতই সবচেয়ে এগিয়ে। গত তিন অর্থবছরে প্রতিবেদনের ৯০ শতাংশেরও বেশি এসেছে ব্যাংকগুলো থেকে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ হার ছিল ৯১ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ২৮ হাজার ৭৫৫টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ১৫ হাজার ৯৯১টির তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি।

এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ২৫০টি এবং অর্থ প্রেরণকারী (মানি রেমিটার) প্রতিষ্ঠানগুলো ১ হাজার ৯৫টি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যা মোট প্রতিবেদনের যথাক্রমে প্রায় ১ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বিএফআইইউ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। আর্থিক গোয়েন্দা তথ্যের জন্য বিভিন্ন সংস্থার অনুরোধ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১ হাজার ১৫৭টি থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৩২৯টিতে পৌঁছেছে, যা প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি। বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সর্বাধিক সংখ্যক তথ্য চেয়েছে।

এছাড়া, ক্যাশ ট্রানজেকশন রিপোর্ট (সিটিআর) কাঠামোর আওতায় ব্যাংকগুলো ৩ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার নগদ লেনদেনের তথ্য দিয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ছিল ১৯ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা।  আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ১ হাজার ৪৮৪টি নগদ লেনদেনের তথ্য দিয়েছে, যার মূল্য ছিল ২১৭ কোটি টাকা।

বিএফআইইউ জানিয়েছে, সিটিআর (নগদ লেনদেন প্রতিবেদন) জমা দেওয়ার হার কমে আসা মূলত ক্যাশলেস বা নগদবিহীন এবং ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।