Corporate Sangbad
খেলাধুলা

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন: সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে উড়িয়ে দিয়ে ইতিহাস

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন · স্পোর্টস ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ২-০ গোলে পরাজিত করে দুর্দান্ত জয়ের মাধ্যমে ফাইনালে উঠেছেন স্পেন। এই জয়ের পর আত্মবিশ্বাসী স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তাঁর দলকে "বিশ্বের সেরা দল" বলে আখ্যায়িত করেছেন।

মঙ্গলবার টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে স্পেনের জয়ে গোল দুটি করেন মিকেল ওয়ারজাবাল ও পেদ্রো পোরো। এর মধ্য দিয়ে ১৬ বছর পর ফাইনালে উঠল স্পেন। ২০১০ সালের পর প্রথমবার শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে তারা।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আবেগপ্রবণ দে লা ফুয়েন্তে বলেন, "প্রায় চার বছর আগে আমরা একটি নির্দিষ্ট দর্শন নিয়ে পথচলা শুরু করেছিলাম। আমরা সেই বিশ্বাসের প্রতি অবিচল থেকেছি, আর সেটিই আমাদের আজ এই সাফল্য এনে দিয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "আজ আমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি দলের মুখোমুখি হয়েছিলাম, কিন্তু তাদের সামনে ছিল বিশ্বের সেরা দল। এটাই ছিল আজকের ম্যাচের মূল পার্থক্য।"

২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী কোচ দে লা ফুয়েন্তে টানা তৃতীয়বারের মতো কোনো বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারানোর কৃতিত্ব দেখালেন। এই সাফল্যকে তিনি তাঁর দলের ঐক্য, অঙ্গীকার এবং নিঃস্বার্থ মানসিকতার ফসল বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, "এই খেলোয়াড়রা সবকিছুরই যোগ্য। তারা কঠিন কাজকেও মাঠের পারফরম্যান্সে অনেক সহজ করে তুলেছে।"

ম্যাচের শুরুর ২২ মিনিটে স্পেনের ভাগ্য খুলে যায়। বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হন লামিন ইয়ামাল। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ইয়ামালের পায়ে জোরে আঘাত করেন লুকাস দিনিয়ে। রেফারির চোখ তা এড়ায়নি। স্পেনকে সফল পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে নেন ওইয়ারসাবাল।ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁ বামদিকে ঝাঁপিয়েছিলেন। কিন্তু জোরালো শট নাগালে পাননি তিনি। 

ম্যাচে ফিরতে মরিয়া ফ্রান্স প্রথমার্ধে সমতা ফেরাতে পারেনি। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে আরেকটি গোল হজম করে। ৫৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন পেদ্রো পোরো। দানি ওলমোর সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলে দ্রুত বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন পোরো। এরপর দারুণ শটে ফরাসি গোলরক্ষকে পরাস্ত করেন তিনি। ৬৪ মিনিটে লামিন ইয়ামাল আরেকটি গোল করেছিলেন। কিন্তু অফসাইডে তা বাতিল হয়ে যায়। 

ফ্রান্স এরপর শুধুই দর্শক। গোলমুখে একাধিক সুযোগ সৃষ্টি করে তারা। কিন্তু লক্ষ্য ভেদ করতে পারে না। মেজাজ হারিয়ে এলোমেলো ফুটবল খেলে অচেনা রূপে দেখা যায় দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। তাতে গোল শোধ তো হয়নি, উল্টো তাদের শেষটা হয়েছে অসহনীয় যন্ত্রণায় পুড়ে। খ্যাপাটে ফুটবলের পরিবর্তে এই ম্যাচে ফ্রান্সকে পাওয়া গেল তালগোল পাকানো। কোনো কিছুই ঠিকঠাক হচ্ছিল না। ফিনিশিংয়ে চরম দূর্বলতা, মধ্য মাঠ অগোছালো। আর রক্ষণের দেয়াল যেন স্পেনের বাতাসেই উড়ে যায়।

এই জয়ের মাধ্যমে স্পেন টানা ৩৭টি ম্যাচে অপরাজিত থাকার বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করেছে (ইতালির গড়া রেকর্ড)। এই বিশ্বকাপে স্পেন এখন পর্যন্ত ছয়টি ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি।

ফাইনাল: আগামী রবিবার নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে স্পেন মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনার।

ফ্রান্সের তারকা সমৃদ্ধ আক্রমণভাগকে পুরো ম্যাচে স্পেনের রক্ষণভাগ অসাধারণভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল। কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান দেম্বেলেদের মতো খেলোয়াড়রা স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমোনের গোলপোস্টের দিকে ৮০ মিনিটের আগে কোনো শটই নিতে পারেননি।

ম্যাচ শেষে কোচ দে লা ফুয়েন্তে জানিয়েছেন, তাঁর দল ২০১০ সালের সেই বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের স্পিরিট বা আত্মবিশ্বাস পুনরায় খুঁজে পেয়েছে। শিরোপা জয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, "ফাইনাল ম্যাচগুলো উপভোগ করার জন্য, কেবল জেতার জন্য নয়। আমরা এই মুহূর্তটির অপেক্ষায় আছি।"