Corporate Sangbad
শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি

জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ন ·

শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিজের একটি ব্যক্তিগত মন্তব্যের জেরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এই দুঃখ প্রকাশ করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে কিছু বলিনি। তারপরও আমার বক্তব্যে কেউ আহত হয়ে থাকলে, সেজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এছাড়া প্রয়োজনে গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার বিষয়েও তিনি আশ্বাস দেন।

মন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর উপস্থিত সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে স্বাগত জানান।

বন্যা ও টানা বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্ত্রীর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তাকে এক পরীক্ষার্থীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিওতে মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা তো ফার্মের মুরগি, একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসবে।’ সোমবার রাতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই মন্তব্য ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

জানা যায়, রোববার রাতে সিটি কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মন্ত্রীর সাথে সন্তানের কথা বলিয়ে দেন। সেই কথোপকথনই পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণের প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজপথে নামেন শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রা করেন। পুলিশের ব্যারিকেড পেরিয়ে তারা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

এদিকে আজ সংসদে এইচএসসি পরীক্ষা না পেছানোর ব্যাখ্যা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা পদ্ধতির সিস্টেম অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার, ডিসি-ইউএনওরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন যে পরীক্ষা নেয়া যাবে কি না। তারা দুর্যোগ দেখলে পরীক্ষা নেয়া বন্ধও করতে পারেন। আমরা তাদের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করেছি। তাঁরা জানিয়েছেন ঠিকমতোই পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদেরও মায়া আছে। সেজন্য আমরা সবসময় মনিটরিং করেছি।

এইচএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হবে এমন তথ্যের ভিত্তিতেই সোমবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। তবে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন নিয়ে ওঠা বিতর্কের পর পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় ওই দুটি প্রশ্নে সকল পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার জন্য সারাদেশে ৬৪ জেলায় ২৭০০ সেন্টার রয়েছে। সবগুলোতেই একসঙ্গে পরীক্ষা শুরু হয়। চট্টগ্রামে যখন বন্যা শুরু হলো তখন আমরা একে একে প্রথমে রাঙামাটি-বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এবং পরবর্তীতে পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করেছি। আমরা দেখছিলাম বৃষ্টি হচ্ছিল, আমরা মনিটরিং করছিলাম। আমরা সব জেলার এসপি, ৮টি বিভাগীয় কমিশনার, প্রতিটি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ইউএনও, সবার সঙ্গে কথা বলেছি। এমনকি আবহাওয়াবিদদের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। আবহাওয়াবিদরা বলেছিলেন বৃষ্টি হবে না। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি কুমিল্লা সরকারি কলেজের মাঠ পানিতে ভরে গেছে। তখন সঙ্গে সঙ্গে আমি পরীক্ষাকেন্দ্র স্থানান্তরের নির্দেশ দিই। 

 

 

 

 

 

 

 

শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিজের একটি ব্যক্তিগত মন্তব্যের জেরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। 

 

শিক্ষার্থীদের নিয়ে মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড.আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনও মন্তব্যে শিক্ষার্থীরা আহত হলে দুঃখিত। এ ছাড়া প্রয়োজনে ১৩ জুলাইয়ের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ফের নেয়া হবে।

বন্যার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে একজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছেন শিক্ষামন্ত্রী।

সেখানে পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা তো ফার্মের মুরগি, একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসবে।’ বিষয়টি সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিটি কলেজের একজন ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর মোবাইল ফোনে কথা হয়। ওই ছাত্রীর অভিভাবক মন্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। রোববার (১২ জুলাই) রাতে এ কথোপকথন হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় ৪৫ মিনিট পর দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে অবরোধ প্রত্যাহার করে মিছিল নিয়ে নিউমার্কেট হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে পুলিশ সেখান থেকে সরে যেতে বললে শিক্ষার্থীরা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে গিয়ে কিছু সময় অবস্থান করেন।

দুপুরের পর শিক্ষার্থীরা আবারও সায়েন্স ল্যাব মোড়ে ফিরে দ্বিতীয় দফায় প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন। এরপর তারা জাতীয় সংসদ ভবনের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেন। মিছিলটি সায়েন্স ল্যাব থেকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হয়। আসাদ গেট এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দিলেও শিক্ষার্থীরা সেটি অতিক্রম করে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার গেটের সামনে পৌঁছে অবস্থান নেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।