Corporate Sangbad
খেলাধুলা

আজ সেমিফাইনালে মুখোমুখি ফ্রান্স-স্পেন

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ন · স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন।  মঙ্গলবার (১৪ জুলাই)  টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটিকে অনেকেই ‘ফাইনালের আগেই ফাইনাল’ হিসেবে অভিহিত করছেন। একদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বাধীন ফ্রান্সের বিধ্বংসী আক্রমণভাগ, অন্যদিকে লুইস ডি লা ফুয়েন্তের স্পেনের সুসংগঠিত দলগত ফুটবল—সব মিলিয়ে আজ এক হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের অপেক্ষায় বিশ্ব।

টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের শক্তি তাদের অলস্টার আক্রমণভাগ। ছয় ম্যাচে আট গোল করা অধিনায়ক এমবাপ্পের সঙ্গে মাইকেল ওলিসে, ওসমানে ডেম্বেলে, ব্র্যাডলি বারকোলা ও ডিসায়ার ডুয়েদের ব্যক্তিগত দক্ষতা যেকোনো রক্ষণভাগকে ধসিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

অন্যদিকে, স্পেন নির্ভর করছে তাদের চিরচেনা ‘টিকি-টাকা’ বা বল দখলের কৌশলের ওপর। রদ্রি, পেদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজের মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ এবং টিনএজার উইঙ্গার লামিন ইয়ামালের গতি ও স্কিলের ওপর ভর করে স্পেন তাদের ছন্দ ধরে রেখেছে। ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে প্রথমবার বড় পরীক্ষার মুখে ফেলতে বদ্ধপরিকর তারা।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান স্পেনের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-১ ব্যবধানে হারানো এবং উয়েফা নেশনস লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৫-৪ গোলের জয় স্প্যানিশদের বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

তবে স্পেনকে নিয়ে মোটেই চিন্তিত নয় তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা দুটি দল। আমরা মোটেও ভীত নই। হয় তারা টানা তৃতীয় ফাইনালে উঠবে, নয়তো আমরা তাদের টানা তিনবার হারাব। দেখা যাক কী হয়।” কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তেও জোর দিয়ে বলেছেন, যেকোনো প্রতিপক্ষকে হারানোর সামর্থ্য তাদের আছে।

টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পা রাখা ফ্রান্সের লক্ষ্য এখন শিরোপা জয়। এটি কোচ দিদিয়ের দেশ্যমের শেষ বিশ্বকাপ, যিনি দলকে এক সুতোয় গেঁথেছেন পরিবারের মতো। গত গ্রুপ পর্বে ব্যক্তিগত শোক সামলে আবারও ডাগআউটে ফেরা দেশ্যমকে নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, “আমাদের দলের ডিএনএ-তেই আছে সবাই একসঙ্গে থাকা এবং কোচের পাশে দাঁড়ানো।”

টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পথে থাকা ফ্রান্স কি তাদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দিয়ে স্পেনের রক্ষণ ভাঙতে পারবে, নাকি স্পেনের সুসংগঠিত দলগত ফুটবল ফ্রান্সের স্বপ্নভঙ্গ করবে—সেই উত্তরের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।

মুখোমুখি পরিসংখ্যান
বিশ্বকাপে এটি হবে ফ্রান্স ও স্পেনের মাত্র দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। ২০০৬ সালের শেষ ষোলোতে তাদের একমাত্র বিশ্বকাপ লড়াইয়ে ৩-১ গোলে জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। তবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বশেষ ১০ দেখায় স্পেনের রেকর্ড অনেক ভালো। তারা সাতটি ম্যাচ জিতেছে, একটি ড্র করেছে এবং মাত্র দুটি ম্যাচে হেরেছে। সর্বশেষ দুই দেখাতেই জয় স্পেনের।

ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ২-১ ব্যবধানে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল স্পেন। এরপর ২০২৫ সালের নেশন্স লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচেও ৫-৪ ব্যবধানে জয় পায় লা রোহা।
 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মঙ্গলবার বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও স্পেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগকে থামানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামবে স্পেন।

ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং দিদিয়ের দেশ্যমের ফ্রান্স টেক্সাসের আর্লিংটনে অবস্থিত এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে। টুর্নামেন্টে টিকে থাকা দুই সেরা দলের এই লড়াইকে অনেকেই "ফাইনালের আগেই ফাইনাল" বলে অভিহিত করছেন।

নীল জার্সিধারী ফ্রান্স অনায়াসে শেষ চারে উঠেছে। তাদের অলস্টার আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি ছয় ম্যাচে ইতোমধ্যে আটটি গোল করেছেন। এমবাপ্পের পাশে রয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখ তারকা মাইকেল ওলিসে, ব্যালন ডি'অরজয়ী ওসমানে ডেম্বেলে এবং প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইর জুটি ব্র্যাডলি বারকোলা ও ডিসায়ার ডুয়ে।

অন্যদিকে লাল জার্সিধারী স্পেন লুইস ডি লা ফুয়েন্তের অধীনে নিজেদের পরিচিত বল দখলের পারদর্শীতা, সুযোগ বুঝে প্রতিপক্ষের রক্ষনভাগে কৌশলী আক্রমন চালানো ও দুর্দান্ত প্রতিভাবান স্কোয়াড নিয়ে ঠান্ডা মাথায় সেমিফাইনালে উঠে এসেছে।

ফ্রান্স যেখানে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ঝলকে এগিয়েছে, সেখানে স্পেন নির্ভর করেছে দলগত শক্তির ওপর। রদ্রি, পেদ্রি ও ফাবিয়ান রুুইজের নিখুঁত পাসিংয়ের ওপর গড়ে ওঠা তাদের সুসংগঠিত মিডফিল্ড টিনএজার উইঙ্গার লামিন ইয়ামালের জন্য নিয়মিত সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।

ফলে এটি হতে যাচ্ছে দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের এক ক্লাসিক লড়াই। স্পেন বলের দখল ধরে রেখে এমবাপ্পে ও তাঁর সতীর্থদের কাছে বল পৌঁছানোর পথ বন্ধ করার চেষ্টা করবে। একই সঙ্গে তারা চাপ সৃষ্টি করতে চাইবে ফ্রান্সের রক্ষণভাগের ওপর, যাদের এখন পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে খুব বেশি কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়নি। যদিও কাজটি সহজ হবে না, তবু সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্সের বিপক্ষে নিজেদের রেকর্ড থেকে আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে স্পেন।

গত বছর উয়েফা নেশনস লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচে স্পেন ৫-৪ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল। এর আগে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালেও ২-১ ব্যবধানে জিতে পরে শিরোপা জয় করে তারা।

শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল জয়ের পর ইয়ামাল বলেন, স্পেনের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

তিনি বলেন, "অবশ্যই আমরা দুটি দুর্দান্ত দল, বিশ্বের সেরাদের মধ্যে। কী হবে, সেটা দেখা যাবে। কিন্তু আমাদের কোনো ভয় নেই। দুটি সম্ভাবনা আছে- হয় তারা টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠবে, নয়তো আমরা তাদের টানা তিনবার হারাব। দেখা যাক কী হয়। আমরা মোটেও ভীত নই।"

স্পেন কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তেও ইয়াামালের সাথে একমত, "ফ্রান্স দারুণ ছন্দে আছে এবং আমাদের খেলার ধরন আলাদা। আমরা প্রতিপক্ষকে সর্বোচ্চ সম্মান করি, তবে আমরা বিশ্বাস করি যে যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য আমাদের আছে।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা তাদের অসাধারণ শক্তিমত্তা সম্পর্কে জানি। তবে এটাও জানি, সেমিফাইনালে তাদের হারানোর কৃতিত্ব একমাত্র আমাদেরই রয়েছে।"

অন্যদিকে ফ্রান্স আশা করছে, তাদের তারকাখচিত আক্রমণভাগ স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে। 

দেশ্যমের অধীনে তিনটি বিশ্বকাপের মধ্যে দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা ফরাসি দলে স্পষ্ট লক্ষ্য ও ঐক্যের ছাপ দেখা যাচ্ছে। এই বিশ্বকাপ শেষেই কোচের পদ ছাড়বেন দেশ্যম।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা তৃতীয় সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। এর আগে কেবল জার্মানি (১৯৮২-১৯৯০ এবং ২০০২-২০১৪) ও ব্রাজিল (১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২) এই কৃতিত্ব দেখিয়েছে।

তবে আধুনিক ফুটবলে ফ্রান্সকে পরাশক্তিতে পরিণত করার কৃতিত্ব নিজের বলে মানতে নারাজ দেশ্যম। গত সপ্তাহে সাফল্যের রহস্য জানতে চাইলে তিনি হেসে বলেন, "সম্ভবত খুব ভালো খেলোয়াড় থাকার কারণেই। তবে মনে হয় আমি আমার কাজটাও খুব খারাপ করছি না। এটি একটি মানবিক যাত্রা। খেলোয়াড়দের আমি বেছে নিয়েছি, কিন্তু প্রতিদিন এই দলটির সঙ্গে থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগতভাবে আমি খুবই খুশী, আর তাদের এত আনন্দ নিয়ে খেলতে দেখেও ভালো লাগে।"

দেশ্যমের প্রতি সেই ভালোবাসার প্রতিফলন দেখা গেছে খেলোয়াড়দের আচরণেও। গ্রুপ পর্বের মাঝপথে মায়ের মৃত্যুর কারনে দেশে ফিরে গিয়েছিলেন দেশ্যম। নরওয়ের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। এক ম্যাচ পর আবারও তিনি দলের সাথে যোগ দেন। 

এমবাপ্পে বলেন, "যাই ঘটুক না কেন, এই দলের ডিএনএ-তেই আছে সবাই একসঙ্গে থাকা এবং কোচের পাশে দাঁড়ানো।"