Corporate Sangbad
বিনোদন

অভিনেতা রাজপাল যাদবের ৩ মাসের কারাদণ্ড

প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ন ·

চেক বাউন্সের ৭টি মামলায় বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবকে ৩ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিচারপতি স্বর্ণা কান্তা শর্মা এই রায় ঘোষণা করেন। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আদালতের রায় অনুযায়ী, প্রতিটি মামলায় রাজপাল যাদবকে ৩ মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। সাজা ছাড়াও আর্থিক জরিমানার মুখে পড়েছেন এই অভিনেতা ও তার স্ত্রী রাধা যাদব।

৯ কোটি রুপির চেক বাউন্সের এই মামলাগুলোতে আদালত বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রের অনুকূলে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার ৭ জন বাদীর প্রত্যেককে ১ কোটি ৫ লাখ রুপি করে মোট ১ কোটি ৪ লাখ ৭৫ হাজার রুপি পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রকে দিতে হবে ২৫ হাজার রুপি। রাজপালের স্ত্রী রাধা যাদবকে প্রতিটি মামলার বাদীকে ৫ লাখ ৫১ হাজার ৩৮০ রুপি করে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার পটভূমি: ঋণ ও ফ্লপ সিনেমা
এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত ২০১০ সালে। রাজপাল যাদব সে বছর তার প্রথম পরিচালিত সিনেমা ‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের জন্য দিল্লিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'মুরলি প্রোজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড' থেকে ৫ কোটি রুপি ঋণ নেন। তবে মুক্তির পর সিনেমাটি বক্স অফিসে চরমভাবে ব্যর্থ হয়। ফলে ঋণ পরিশোধ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় এবং পাওনাদাররা আদালতের শরণাপন্ন হন।

ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট থেকে হাইকোর্ট: দীর্ঘ আইনি লড়াই
২০১৮ (ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট): ঋণ পরিশোধের জন্য রাজপালের দেওয়া ৭টি চেক বাউন্স হলে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ নম্বর ধারায় রাজপাল ও তার স্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০১৯ (সেশনস কোর্ট): ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের এই রায় বহাল রাখেন সেশনস কোর্ট।

২০২৪ (হাইকোর্ট): সাজার বিরুদ্ধে রাজপাল দিল্লি হাইকোর্টে রিভিশন পিটিশন দাখিল করলে ২০২৪ সালের জুনে আদালত সাময়িকভাবে সাজা স্থগিত করেন। তবে শর্ত দেওয়া হয়, বকেয়া পরিশোধে রাজপালকে ‘সৎ ও আন্তরিক’ উদ্যোগ দেখাতে হবে। ততদিনে সুদ-জরিমানাসহ মোট দেনার পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ কোটি রুপি।

২০২৫ সালের অক্টোবরে রাজপাল ৭৫ লাখ রুপি জমা দিলেও আদালত তা মোট দেনার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য বলে মন্তব্য করেন। এরপর গত ডিসেম্বরে আরও ৪০ লাখ রুপি দেওয়ার পাশাপাশি ২০২৬ সালের শুরুতে বাকি অর্থ শোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পূরণে ব্যর্থ হন অভিনেতা।

চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি রাজপালের শেষ মুহূর্তের ‘মার্সি প্লি’ বা ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন খারিজ করে দেন আদালত। বিচারক পর্যবেক্ষণ করেন যে, রাজপাল বারবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিচারব্যবস্থার প্রতি অসম্মান দেখিয়েছেন। এরপর ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় রাজপাল যাদব দিল্লির তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেন এবং তার ৬ মাসের সাজা কার্যকর শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান।

গত ২ এপ্রিল আদালত উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। শুনানির সময় রাজপাল যাদব আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন এবং জানান যে—এই মামলার কারণে তিনি চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, এমনকি নিজের সম্পত্তিও বিক্রি করতে হয়েছে।

উভয় পক্ষের সমঝোতার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে গতকাল শুক্রবার রাজপাল যাদবের কারাদণ্ডের এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।