Corporate Sangbad
খেলাধুলা

ফিফায় ম্যাচ ফিক্সিংয়ের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মিশরের

প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ন · স্পোর্টস ডেস্ক

২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ ১৩ মিনিটের অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় ৩-২ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে মিশরকে। তবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার এই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিতের ম্যাচটি এখন রূপ নিয়েছে চরম বিতর্কে। ম্যাচের ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ের একাধিক সিদ্ধান্তকে 'পক্ষপাতমূলক' ও 'সন্দেহজনক' আখ্যা দিয়ে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা ফিফার (FIFA) কাছে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে মিশরীয় ফুটবল ফেডারেশন (EFA)।

মিশর ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হানি আবু রিদা স্বাক্ষরিত ওই অভিযোগপত্রে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়কে সামনে আনা হয়েছে:

বৈধ গোল বাতিল: মিশরের একটি নিশ্চিত গোল বাতিল করা।

পেনাল্টি না দেওয়া: ডি-বক্সের ভেতর ফাউল হওয়া সত্ত্বেও পেনাল্টির আবেদন নাকচ করা।

রেফারির ভূমিকা: টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো থেকে রেফারি লেটেক্সিয়ে এবং তার সহকারীদের অবিলম্বে বহিষ্কারের দাবি।

ক্ষুব্ধ মিশর শিবির: 'ব্যবসা'র অভিযোগ কোচের
ম্যাচ শেষ হতেই ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে মিশরের ড্রেসিংরুমে। বাতিল হওয়া গোলের স্কোরার মোস্তফা জিকো সরাসরি মাঠের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসান ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তার মতে, ফিফা তার বাণিজ্যিক ফায়দা লুটতেই আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখার 'পরিকল্পিত' চেষ্টা চালাচ্ছে। মিশর দাবি করেছে, এই হারের পেছনে কৌশলগত কোনো ঘাটতি ছিল না, বরং রেফারির ভুল সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে।

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাচ ফিক্সিং বা রেফারির পক্ষপাতিত্বের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে ফিফা সাধারণত অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেয়। তবে কোনো ম্যাচের স্কোরলাইন পরিবর্তন বা ম্যাচ পুনরায় আয়োজন (Rematch) করার নজির আধুনিক ফুটবলে প্রায় নেই বললেই চলে।

যদি মিশরের স্বাধীন তদন্তের দাবি মেনে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি তদন্ত শুরু করে, তবে মূলত দুটি বিষয় ঘটতে পারে:

ভিএআর (VAR) ও রেফারি মূল্যায়ন: ম্যাচ কমিশনারের রিপোর্ট এবং ভিএআর অডিওর ওপর ভিত্তি করে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ের সিদ্ধান্তগুলো পুনঃপরীক্ষা করা হবে।

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: অভিযোগের সত্যতা বা গুরুতর ভুলের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট রেফারিকে টুর্নামেন্ট থেকে সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদে নিষিদ্ধ করা হতে পারে, যা এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে দেখা গেছে।

নীরব ফিফা ও আর্জেন্টিনা
এই নজিরবিহীন অভিযোগের পর ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত ফিফা কিংবা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (AFA) পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। এমনকি অভিযুক্ত রেফারি লেটেক্সিয়েও গণমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি। ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন সুইজারল্যান্ডের জুরিখের ফিফা সদর দপ্তরের দিকে, তারা এই অভিযোগকে কতটা গুরুত্ব দেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।