ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর বৈতরণী পার হতে পারল না মরিসিও পোচেত্তিনোর যুক্তরাষ্ট্র। বেলজিয়ামের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে স্বাগতিকদের রক্ষণভাগ। ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে টুর্নামেন্টের শেষ আটে নিজেদের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইউরোপের ‘রেড ডেভিলস’রা।
ম্যাচের মূল নায়ক তরুণ ফরোয়ার্ড চার্লস দে কেতেলারে, যিনি একাই জোড়া গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও একটি। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম বেলজিয়ান হিসেবে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সরাসরি তিন গোলে অবদান রাখার এক অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়ার শিষ্যরা হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলতে শুরু করে। উইঙ্গার লিয়ান্দ্রো ট্রসার্ডের ক্রসে বল ক্লিয়ার করতে মার্কিন ডিফেন্ডাররা ব্যর্থ হলে, নিকোলাস রাসকিনের পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ৯ মিনিটেই বেলজিয়ামকে এগিয়ে নেন দে কেতেলারে। এর মাঝেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন বেলজিয়ামের মাঝমাঠের চালিকাশক্তি আমাদু ওনানা, যার স্থলাভিষিক্ত হন হান্স ভানাকেন।
২৯ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ফোলারিন বালোগুন ফাউলের শিকার হলে ফ্রি-কিক পায় যুক্তরাষ্ট্র। ৩১ মিনিটে মালিক টিলম্যানের নেওয়া ফ্রি-কিকটি ভানাকেনের মাথায় লেগে দিক পরিবর্তন করলে পরাস্ত হন বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তবে ১-১ ব্যবধানের এই স্বস্তি স্বাগতিক শিবিরে টিকে ছিল মাত্র দুই মিনিট। ৩৩ মিনিটে ট্রসার্ডের চমৎকার ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি উদযাপনে মাতেন দে কেতেলারে।
বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য মার্কিন কোচ পোচেত্তিনো ডিফেন্ডার সার্জিনিও ডেস্টকে উঠিয়ে আক্রমণাত্মক জিওভান্নি রেইনাকে মাঠে নামান। তবে ম্যাচের ৫৭ মিনিটে মার্কিন গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিসের একটি মারাত্মক ভুলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় যুক্তরাষ্ট্র। বক্সের বাইরে এসে বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে দে কেতেলারে সেটি কেড়ে নিয়ে পাস দেন ভানাকেনকে। প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে ফাঁকা পোস্টে শট নিয়ে টুর্নামেন্টের দীর্ঘতম দূরপাল্লার গোলটি করেন এই মিডফিল্ডার।
এর কিছুক্ষণ পর মার্কিন শিবিরের হতাশা আরও বাড়িয়ে দিয়ে চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক।
ম্যাচের ৬৭ মিনিটে দে কেতেলারে ও লুকেবাকিওকে তুলে নিয়ে যথাক্রমে রোমেলু লুকাকু ও জেরেমি ডোকুকে মাঠে নামান বেলজিয়াম কোচ। ম্যাচের শেষ দিকে বালোগুন ও রেইনা যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ব্যবধান কমানোর কিছু সুযোগ তৈরি করলেও কোর্তোয়ার বিশ্বস্ত গ্লাভস তা রুখে দেয়। অবশেষে যোগ করা সময়ের (৯৩ মিনিট) মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস রিচার্ডসের ভুল থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের নিচু শটে দলের চতুর্থ গোলটি করেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু।