Corporate Sangbad
জাতীয়

দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন ·

চীন ও মালয়েশিয়ায় ছয় দিনের প্রথম সরকারি বিদেশ সফর শেষে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ জুন) রাত পৌনে ৮টায় রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইট বাংলাদেশ সময় রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

এর আগে বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৬ মিনিটে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরাও একই ফ্লাইটে দেশে ফেরেন।

ছয় দিনের এ সরকারি সফরের প্রথম দুই দিন (২১ ও ২২ জুন) মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, যৌথ সংবাদ ব্রিফিং এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

২৩ ও ২৪ জুন চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF) সামার দাভোস-এ অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও বিশ্বনেতার সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরবর্তীতে ২৪ জুন বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর ২৬ জুন পর্যন্ত বেইজিংয়ে সরকারি সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping), ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান Zhao Leji এবং রাষ্ট্রীয় পরিষদের প্রিমিয়ার H. E. Li Qiang-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

চীন সফরের শেষ দিনে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল (Great Hall of the People)-এ গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে দুই নেতা যৌথভাবে বাংলাদেশ-চীন অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব (Bangladesh–China Community with a Shared Future) গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করার অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

একই দিনে তিনি চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান Zhao Leji-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। পরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাস ও ঐতিহ্যবিষয়ক জাদুঘর (Museum of the CPC) পরিদর্শন করেন।

চীনের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৬ মিনিটে বেইজিং ড্যাক্সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানান চীনের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ইউয়ে শিয়াওইয়ং। এ সময় রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদের প্রিমিয়ার H. E. Li Qiang মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘লাল গালিচা’ সংবর্ধনা ও ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করেন। পরে দুই নেতা বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়, যা দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করার ভিত্তি তৈরি করে। পরে তাঁর সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন।

একই দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং এবং পানিসম্পদমন্ত্রী লি গুয়িংয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। পরে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরেন। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বুধবার (২৪ জুন) সকালে চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF) প্ল্যানারি সেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেশনের সাইডলাইনে তিনি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। বিরতিতে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একটি যৌথ ফটোসেশনে অংশ নেন।

এরপর দুপুরে দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড (বুলেট) ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে বেইজিংয়ের চাওইয়াং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান চীনের ‘জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস’ (GACC)-এর মন্ত্রী এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (CPC) কমিটির সেক্রেটারি সুন মেইজুন। সেখানে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘লাল গালিচা’ সংবর্ধনা ও আনুষ্ঠানিক ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। পরে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রায় তাঁকে দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্ট হাউসে (রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন) নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চীন সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে পুনরায় আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা জানানো হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (২৩ জুন) দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’-এ “Climate Leadership in a Shifting Global Landscape” শীর্ষক সেশনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সফরকালে WEF-এর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলোইস জভিংগির সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। এ সময় আলোইস জভিংগি প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

সোমবার (২২ জুন) পুত্রজায়ার পেরদানা পুত্রায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘লাল গালিচা’ সংবর্ধনা ও ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করেন। পরে দুই নেতার একান্ত ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তাঁরা যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে অংশ নেন এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সফর শেষে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তাঁর সহধর্মিণীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

২২ জুন মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। দালিয়ান ঝৌশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে লিয়াওনিং প্রদেশের ভাইস গভর্নর বাই ইং তাঁকে অভ্যর্থনা জানান এবং চীন সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘লাল গালিচা’ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

এর আগে রবিবার (২১ জুন ২০২৬) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে তাঁর বিমান কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (কেএলআইএ) পৌঁছালে মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাঁকে আনুষ্ঠানিক ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়া ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সরকারি বিদেশ সফর এবং চীন ছিল তাঁর দ্বিতীয় সরকারি বিদেশ সফর।