Corporate Sangbad
শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি

প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টা করলে আজীবন মনে রাখার মতো শাস্তি পাবেন, হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ন · নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় জিপিএ বৈষম্য দূর করতে এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ‘একক ও অভিন্ন’ প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই সাথে প্রশ্ন ফাঁসের যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা বা চালাকি কঠোর হস্তে দমন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, "কোনো একটি বোর্ডের প্রশ্ন সহজ আর অন্য বোর্ডের প্রশ্ন কঠিন—এই জিপিএ বৈষম্যের মানসিকতা থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্ত করতেই আমরা একক ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এবার এইচএসসি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবার প্রশ্ন ফাঁসের কোনো রকম চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, যা দেখে অন্য অপরাধীরা আজীবন শিক্ষা পাবে।"

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বরিশাল শিক্ষা বোর্ড এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, "সারা বিশ্বে যদি ‘ও লেভেল’ বা ‘এ লেভেল’ পরীক্ষা একই প্রশ্নে হতে পারে, তবে আমাদের দেশে বোর্ডভেদে আলাদা প্রশ্ন কেন হবে? বোর্ডের চেয়ারম্যানরা আগে বলতেন—প্রশ্ন ফাঁসের আশঙ্কায় তারা আলাদা প্রশ্ন করেন। আমি বলেছি, প্রশ্ন ফাঁসই হতে দেওয়া হবে না।"

বিগত সরকারের আমলের শিক্ষার করুণ চিত্র ও ঢালাও পাসের সমালোচনা করে ড. মিলন বলেন, "বিগত সরকারের আমলের নীতি ছিল—না পড়ে, নকল করে, ইন্টারনেটের সহায়তায় খাতায় বেশি নম্বর দিয়ে পাস করিয়ে দাও। এভাবে পাস করে যারা ডাক্তার হয়েছেন, তারা যদি কোনো অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসা দিতে যান, তবে রোগীকে সামনে রেখেই তাদের নতুন করে বই পড়তে হবে। মেধার কোনো বিকল্প নেই।"

তিনি আরও বলেন, "বিগত সরকারের ‘কর্তার ইচ্ছায় কর্ম’ নীতির কারণে শিক্ষকেরা বাধ্য হয়ে সবাইকে পাস করিয়েছেন। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার লেখাপড়ার মান ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। আমরা যোগ্যতার নামে ক্ষমতায় বসে থাকতে চাই না, যে কদিন থাকব সিংহের মতো চলব, শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে ছাড়ব।"

মাদ্রাসা শিক্ষকদের মে মাসের বকেয়া বেতন প্রসঙ্গে মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বিগত সরকার সেপ্টেম্বর ও ফেব্রুয়ারি মাসে কোনো ধরনের বাজেট বরাদ্দ ছাড়াই ১৭ হাজার এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিল। তারা অঙ্কে কাঁচা ছিল, বাজেট এলোকেশন করেনি। ফলে মে মাসে এসে আমাদের হাতে টাকা ছিল না। আমি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা শুধু জনতা ব্যাংকে ছাড় করেছি, যা দিয়ে চার ভাগের এক ভাগ শিক্ষক বেতন পাবেন।" তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে শিক্ষকদের বকেয়া এমপিও এবং মে ও জুনের সমস্ত বকেয়া বেতন একসাথে পরিশোধ করা হবে।

ইএফটি (EFT) প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রী বলেন, "২০১৭ সালে শিক্ষকদের টাকা অনলাইনে পাঠানোর জন্য ১০ কোটি টাকার ইএফটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, তা বাড়িয়ে ৮০ কোটি টাকা করা হয়েছে, কিন্তু কাজ শেষ করা হয়নি। এই প্রকল্পকে আগামী ১ বছর সময় দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে শেষ না হলে এটি বন্ধ করে ম্যানুয়ালি কাজ করা হবে।"

শিক্ষকদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে মন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেলের ধারাবাহিকতায় শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা হবে। একই সাথে তিনি কেন্দ্র সচিব ও কর্মকর্তাদের সারা দেশে পরীক্ষার শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং কোনো পরীক্ষার্থীকে অন্যায় সুবিধা না দেওয়ার নির্দেশ দেন।

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন উর রশিদ, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুছ আলী সিদ্দিকী, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান।