Corporate Sangbad
সারাদেশ

যমুনার ভাঙনে চৌহালী: হুমকিতে জনপদ ও ধর্মীয় স্থাপনা

প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ন · সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার চর সলিমাবাদ, টেকপাড়া ও ভূতের মোড় এলাকার তীরসংরক্ষণ বাঁধে ধস নামায় বর্তমানে হাজারো মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভাঙনস্থল থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরত্বের মধ্যে টেকপাড়া পাকা মসজিদ, চর সলিমাবাদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ, কবরস্থান, স্থানীয় খেলার মাঠ, হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও বাজারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এখন সরাসরি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ভাঙনের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে স্বল্প সময়ের মধ্যে এসব স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে গত কয়েক দিনে চর সলিমাবাদ, ভূতের মোড়, টেকপাড়া, স্থল ও উমারপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলের কয়েকশ ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুম বিল্লাহর তথ্যমতে, চলতি বছরে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া কয়েকশ বিঘা আবাদি জমি ও প্রায় দুই হাজার ঘরবাড়ি ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। এলাকার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সাইমন জানান, দীর্ঘমেয়াদী ভাঙনে উপজেলার প্রায় ৮৫ শতাংশ ভূমি ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবারকে সাত থেকে দশবার পর্যন্ত ঘরবাড়ি স্থানান্তর করতে হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অস্থায়ী জিওব্যাগ ডাম্পিং পদ্ধতির পরিবর্তে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম আলিম সম্প্রতি জাতীয় সংসদে চৌহালী এলাকার নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি উত্থাপন করেছেন। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, ভাঙন কবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ও জিওটিউব নিক্ষেপ করা হচ্ছে যাতে ভাঙন আরও বিস্তার লাভ করতে না পারে।

চৌহালীর মানচিত্র রক্ষা এবং জনপদকে বিলীন হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা না হলে প্রতি বছরই নতুন নতুন এলাকা যমুনার গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।