ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃষ্টির বিঘ্ন ঘটানো সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অসিদের ৫ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা। এর আগে প্রথম ম্যাচে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই মেহেদি হাসান মিরাজের দল সিরিজ নিশ্চিত করল।
টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে এখন কেবল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় বাকি রইল বাংলাদেশের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব ফরম্যাট মিলিয়ে এটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়। এর আগে ২০২১ সালের আগস্টে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অসিদের ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল টাইগাররা।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের তোপের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই অসি ওপেনার ম্যাথু শর্টকে (০) বোল্ড করেন তাসকিন। পরের ওভারে এসে জোড়া আঘাত হানেন মুস্তাফিজ। ওভারের প্রথম বলে কুপার কনোলি (০) এবং শেষ বলে ম্যাট রেনশকে (০) উইকেটরক্ষক লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি।
নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে এক হাজারের বেশি ওয়ানডে খেলা অস্ট্রেলিয়া এর আগে কখনো ০ রানে ৩ উইকেট হারানোর মতো মহাবিপদে পড়েনি। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে জশ ইংলিশ ও অ্যালেক্স ক্যারি চতুর্থ উইকেটে ২৫ রান যোগ করেন। ক্যারিকে (১৩) ফিরিয়ে এ জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজ। এরপর পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক জশ ইংলিশ ও ক্যামেরুন গ্রিন ৪৩ রানের প্রতিরোধ গড়েন। তবে বাঁ-হাতি স্পিন ট্র্যাকার তানভীর ইসলামের জোড়া আঘাতে দুজনেই সাজঘরে ফেরেন; ইংলিশ ৩৪ ও গ্রিন ২৫ রান করেন।
৮১ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেট দলের হাল ধরেন। এই জুটি ১১৫ বলে ১০৩ রান যোগ করে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে ফেরায়। এর মাঝেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন বার্টলেট। ৪১তম ওভারে তাসকিন আহমেদ আবারও দৃশ্যপটে আসেন। ওভারের দ্বিতীয় বলে বার্টলেট (৫২) এবং পরের বলেই এডাম জাম্পাকে (০) বোল্ড করে বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন। ৪২ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ যখন ৮ উইকেটে ১৮৭ রান, তখন বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। লাবুশেন ৫৫ এবং নাথান এলিস ২ রানে অপরাজিত ছিলেন।
বৃষ্টির কারণে ২ ঘণ্টার বেশি সময় নষ্ট হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া আর ব্যাট করার সুযোগ পায়নি। ফলে বৃষ্টি আইনে (ডিএলএস মেথড) বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন ৩৩ রানে এবং মুস্তাফিজ ২৭ রানে ৩টি করে উইকেট নেন। তানভীর নেন ২টি উইকেট।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই পেসার জেভিয়ার বার্টলেটকে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে বিদায় নেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তবে দ্বিতীয় উইকেটে সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৬ রানের জুটি দলকে শক্ত ভিত এনে দেয়। সৌম্য ৪৭ বলে ৪২ এবং শান্ত ৫৩ বলে ৪২ রান করে আউট হন।
মিডল অর্ডারে লিটন দাস ২১ ও মোসাদ্দেক হোসেন ১৫ রান করে বিদায় নিলে এক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৪৪ রান। তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৮৪ বলে ৪৮ রান। ষষ্ঠ উইকেটে তাওহিদ হৃদয় ও অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ৫১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ৩৬ বল বাকি থাকতেই বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন। দৃষ্টিনন্দন এক ছক্কা মেরে দলকে জয়ের বন্দরে নেন মিরাজ। হৃদয় ৫৫ বলে ৪০ এবং মিরাজ ২২ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া: ১৮৭/৮ (৪২ ওভার); লাবুশেন ৫৫*, বার্টলেট ৫২; মুস্তাফিজ ৩/২৭, তাসকিন ৩/৩৩।
বাংলাদেশ (লক্ষ্য ৪১ ওভারে ১৯২): ১৯৬/৫ (৩৫ ওভার); সৌম্য ৪২, শান্ত ৪২, হৃদয় ৪০*, মিরাজ ২২*; বার্টলেট ২/৩২।
ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী (বৃষ্টি আইনে)।
আগামীকাল ১৪ জুন মিরপুরেই সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল।