সরকারি চাকরির বাইরে থেকে (চুক্তিভিত্তিক বা অস্থায়ী ভিত্তিতে) নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের বেতন নির্ধারণ করেছে সরকার।
সম্প্রতি (২১ মে) অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের প্রবিধি শাখা-১ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ৩১ মার্চের একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ নাহিদুল করিম স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে সরকারের মতামত ও নির্দেশনা স্পষ্ট করা হয়।
মূল বেতন ও শর্তাবলী:
পদের নাম ও স্কেল: মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অভিপ্রায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) এবং উপমন্ত্রীর অভিপ্রায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত একান্ত সচিবদের (পিএস) মূল বেতন জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ৯ম গ্রেডের ৮ম ধাপে ৩২ হাজার ৫৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইনক্রিমেন্ট: নির্ধারিত এই মূল বেতনের ওপর কোনো ধরনের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, চাকরির মেয়াদকালে তাদের মূল বেতন অপরিবর্তিত থাকবে।
ভাতা ও সুবিধা: মূল বেতন অপরিবর্তিত থাকলেও তারা বিধি অনুযায়ী বাসাভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য অনুমোদিত সরকারি ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
অবসরকালীন সুবিধা: যেহেতু তারা স্থায়ী সরকারি কর্মচারী নন, তাই চাকরি শেষে কোনো ধরনের পেনশন, আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) কিংবা ভবিষ্য তহবিলের (প্রভিডেন্ট ফান্ড) সুবিধা পাবেন না।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই বেতন কাঠামো কেবলমাত্র সরকারি চাকরির বাইরে থেকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্যই প্রযোজ্য। কোনো নিয়মিত সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি প্রেষণ, সংযুক্তি বা অন্য কোনো প্রশাসনিক উপায়ে এসব পদে দায়িত্ব পালন করেন, তবে তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে না।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দপ্তরে কর্মরত ব্যক্তিগত স্টাফদের বেতন ও আর্থিক সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি স্পষ্ট নীতিমালার প্রয়োজন ছিল।
নতুন এই নির্দেশনার ফলে বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী একান্ত সচিব ও একান্ত সচিবদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো সুস্পষ্ট হলো এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সহজ হবে।
অর্থ বিভাগের জারি করা এই সিদ্ধান্ত সরকারি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক পদগুলোতে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক অবস্থান নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষ করে রাজনৈতিক নির্বাহীদের দপ্তরে নিয়োজিত ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের বেতন ও সুবিধা বিষয়ে দীর্ঘদিনের অস্পষ্টতা দূর করতে এ নির্দেশনা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।