Corporate Sangbad
সারাদেশ

লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত ২ বাংলাদেশির লাশ বাড়িতে, সাতক্ষীরায় শোকের মাতম

প্রকাশিত: ৭ জুন, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ন · শহীদুজ্জামান শিমুল, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার দুই প্রবাসী শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম নাহিদের মরদেহ ২৭ দিন পর নিজ বাড়িতে পৌঁছেছে।

রোববার (৭ জুন) সকালে তাদের মরদেহ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রাম এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য স্বজনরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আবেদন করেন।

পরবর্তীতে সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শনিবার রাত ২টা ১০ মিনিটে মরদেহ দুটি লেবানন থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহ দুটি নিজ নিজ বাড়িতে আনা হয়।

এ সময় শত শত মানুষ শেষবারের মতো তাদের দেখতে ভিড় করেন। রোববার বাদ জোহর স্থানীয় মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হবে।

নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম নাহিদ ছিলেন তাদের পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের অকাল মৃত্যুতে পরিবার দুটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন মিঠু বলেন, একমাত্র উপার্জনক্ষম দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ায় পরিবার দুটি অসহায় হয়ে পড়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যদের চাকরির ব্যবস্থা ও সরকারি-বেসরকারি সহায়তা দেওয়া জরুরি।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের খুলনার ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক খালেদুর রহমান জানান, মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে নিহত শফিকুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের হাতে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ৩৫ হাজার টাকা ও ৫০ হাজার টাকার দুটি চেক প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং জীবন বীমা কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

নিহতের স্বজনরা জানান, উন্নত জীবনের আশায় শফিকুল ইসলাম প্রায় ৮ লাখ টাকা এবং নাহিদুল ইসলাম নাহিদ প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় করে গত ২১ ফেব্রুয়ারি লেবাননে পাড়ি জমান। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই ড্রোন হামলার শিকার হয়ে তাদের স্বপ্নের সমাপ্তি ঘটে।

দুই প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।