Corporate Sangbad
জাতীয়

সুদানে নিহত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে জাতিসংঘের মরণোত্তর মেডেল

প্রকাশিত: ৬ জুন, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ন ·

সুদানে জাতিসংঘের পতাকাতলে কর্তব্যরত অবস্থায় আত্মোৎসর্গকারী বাংলাদেশের ছয় শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর মর্যাদাপূর্ণ ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ প্রদান করেছে জাতিসংঘ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

শনিবার (৬ জুন) ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় জানানো হয়েছে, শুক্রবার (৫ জুন) ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত স্মারক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পদক তুলে দেন। বাংলাদেশের পক্ষে পদকগুলো গ্রহণ করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী।

পদকপ্রাপ্ত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী হলেন-

কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা

প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম

প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া

প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম

প্রাইভেট শামীম রেজা

প্রাইভেট সান্তো মন্ডল

২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সুদানের কাদুগলির আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) দায়িত্ব পালনকালে এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় এই ছয় বীর বাংলাদেশি সেনা নিহত হন। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিবছর এই মরণোত্তর মেডেল প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো শান্তিরক্ষীদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এ সময় তিনি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন মিশনে নিয়োজিত ৫০ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, "তারা চরম ঝুঁকি নিয়ে বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন।"

চলতি বছর শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের সময় প্রাণ হারানো ৩৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী জাতিসংঘ সদর দপ্তরের শোকবইয়ে স্বাক্ষর করে নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ সৈন্য প্রেরণকারী দেশ। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগ বরাবরই আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত ও স্বীকৃত হয়ে আসছে।