Corporate Sangbad
আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্কের প্রস্তাব

প্রকাশিত: ৩ জুন, ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ন ·

জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নতুন অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্প প্রশাসন স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ জুন) এই প্রস্তাব প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, ‘সেকশন ৩০১’ তদন্তের আওতায় বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্যসহ ১৫টি অর্থনীতি থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া তদন্তের আওতায় থাকা বাকি ৪৫টি দেশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্কের হার হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

ইউএসটিআরের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য প্রতিরোধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে মার্কিন শ্রমিক ও উৎপাদকরা বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, “আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি বন্ধে ব্যর্থতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে মার্কিন শ্রমিকদের জন্য বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।”

বস্ত্র খাতের জন্য নতুন ব্যবস্থা
ইউএসটিআর আরও জানিয়েছে, এই শুল্কের পাশাপাশি একটি নতুন টেক্সটাইল বা বস্ত্র আমদানি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক ও বস্ত্রপণ্য তুলনামূলক কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে এই কোটার পরিমাণ ও শুল্কহার এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

এই ঘোষণাটি এমন একটি সময়ে এলো, যখন আগামী ২৪ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত অস্থায়ী ১০ শতাংশ সর্বজনীন শুল্কের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই শুল্কটি পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়।

এর আগে গত সোমবার ব্রাজিলের ডিজিটাল বাণিজ্যনীতি ও অগ্রাধিকারমূলক শুল্কব্যবস্থা নিয়ে পরিচালিত পৃথক সেকশন ৩০১ তদন্তের ভিত্তিতে দেশটির পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেয় ইউএসটিআর। একই সঙ্গে চীনসহ ১৬টি দেশের অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের ফলও শিগগির প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

শুল্কের আওতামুক্ত থাকছে যেসব পণ্য
নতুন এই অতিরিক্ত শুল্ক ব্যবস্থার বাইরে রাখা হয়েছে বেশ কিছু জরুরি খাত ও পণ্যকে। এর মধ্যে রয়েছে— জ্বালানি, রেয়ার আর্থ খনিজ, কিছু নির্দিষ্ট ধাতু, গরুর মাংস, কফি, নির্দিষ্ট ফল ও সবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক পদার্থ এবং উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ।

ইউএসটিআর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত শুল্ক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে। এরপর ৭ জুলাই এই বিষয়ে একটি গণশুনানির আয়োজন করবে সংস্থাটি।