Corporate Sangbad
খেলাধুলা

ষষ্ঠ বিশ্বকাপে পর্তুগালের নেতৃত্বে রোনাল্ডো

প্রকাশিত: ১ জুন, ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন · স্পোর্টস ডেস্ক

রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে মাঠে নামতে যাচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। বৈশ্বিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে পর্তুগাল। কোচ রবার্তো মার্টিনেজের দল গ্রুপ ‘কে’-তে অন্যতম ফেবারিট হিসেবেই আছে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো, বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া উজবেকিস্তান এবং তুলনামূলক কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী কলম্বিয়া। 

ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো এবং দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি এবারের বিশ্বকাপের ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। তারা দুজনেই বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে অংশ নেওয়া প্রথম ফুটবলার হতে চলেছেন।

২০০৬ সালের বিশ্বকাপে রোনাল্ডোর অভিষেক আসরে পর্তুগাল চতুর্থ স্থান অর্জন করেছিল। কিন্তু এরপর আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা (১৪৩ গোল) রোনাল্ডোকে দলে রেখেও দলটি খুব কমই শিরোপার কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছে।

বর্তমানে ৪১ বছর বয়সী রোনাল্ডোর উপস্থিতিকেই অনেকে সাম্প্রতিক বড় টুর্নামেন্টগুলোতে পর্তুগালের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে শেষ নয় ম্যাচে তিনি কোনো গোল করতে পারেননি। এমনকি ২০২২ বিশ্বকাপে তৎকালীন কোচ ফার্নান্দো সান্তোস রোনাল্ডোকে বেঞ্চে বসিয়ে গনসালো রামোসকে খেলিয়েছিলেন।

তবে মার্টিনেজ রোনাল্ডোর প্রতি আস্থা অটুট রেখেছেন এবং তার পেছনে যুক্তিও রয়েছে। গত বছর স্পেনকে টাইব্রেকারে হারিয়ে পর্তুগাল যখন উয়েফা নেশন্স লিগ জেতে তখন কোয়ার্টার-ফাইনাল, সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল- তিন ম্যাচেই গোল করেছিলেন রোনাল্ডো।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও তিনি পাঁচ ম্যাচে পাঁচ গোল করেন, যদিও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখেছিলেন। অন্য কোনো খেলোয়াড় হলে হয়তো টুর্নামেন্টের শুরুতেই দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তেন, কিন্তু রোনাল্ডো মাত্র এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হন।

রোনাল্ডোকে সমর্থনের আরেকটি কারণ হলো, আক্রমণভাগে পর্তুগালের কাছে খুব বেশি নির্ভরযোগ্য বিকল্প নেই। তবে তাদের আসল শক্তি সম্ভবত বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা মিডফিল্ড লাইনআপ।

পিএসজি জুটি ভিটিনহা, হুয়াও নেভেসের সাথে আরও আছেন প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা খেলোয়াড় ব্রুনো ফার্নান্দেস ও বার্নান্ডো সিলভা। 

এদিকে গ্রুপের আরেক শক্তিশালী দল কলম্বিয়ার নেতৃত্বে রয়েছেন তাদের অভিজ্ঞ তারকা হামেস রদ্রিগেজ, যিনি ১২ বছর আগে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্লাব ক্যারিয়ার খুব একটা সফল না হলেও ৩৪ বছর বয়সী হামেস এখনও কলম্বিয়া দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। দুই বছর আগে দলটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেছিল এবং দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল।

তবে এখন ‘লস কাফেতেরোস’র প্রধান তারকা লুইস দিয়াজ। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম কাটিযয়ে তিনি বিশ্বকাপে এসেছেন।

এই বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার ম্যাচের টিকিট সবচেয়ে বেশি চাহিদা সম্পন্নগুলোর মধ্যে রয়েছে। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী ও ভ্রমণকারী সমর্থকের উপস্থিতি দলটিকে বড় সমর্থন জোগাবে।

ফলে গ্রুপের অন্য দুই দল উজবেকিস্তান ও ডিআর কঙ্গোর জন্য দুই ফেবারিট পর্তুগাল ও কলম্বিয়াকে হারিয়ে চমক দেখানো আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

ম্যানচেস্টার সিটি ডিফেন্ডার আব্দুকোডির খুশানভ উজবেকিস্তান দলের সবচেয়ে পরিচিত মুখ। যদিও দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই দেশের ঘরোয়া লিগে খেলেন।

তবে উজবেকদের বেঞ্চে আছেন বিশ্বকাপজয়ী কোচ ফ্যাবিও ক্যানাভারো, যিনি ২০০৬ সালে ইতালিকে বিশ্বকাপ জেতানো দলের অধিনায়ক ছিলেন।

অন্যদিকে ডিআর কঙ্গো ৫২ বছর আগে একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল। যখন দেশটির নাম ছিল জায়ার। সে আসরে তারা কোনো পয়েন্ট বা গোল ছাড়াই বিদায় নিয়েছিল।

তবে এবার দলটিতে আছেন ইওয়ানে উইসা, নোহা সাদিকি ও এ্যারন ফন-বিসাকার মতো খেলোয়াড়রা। তাদের লক্ষ্য অন্তত বিশ্বকাপে প্রথম জয় অর্জন করা।

কোচ সেবাস্টিন ডিসাবরের দল প্লে-অফে ক্যামেরুন ও নাইজেরিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে।