Corporate Sangbad
কর্পোরেট সংবাদ

সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও একমি ল্যাবরেটরিজের এমডি মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন · ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দেশের অন্যতম শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। 

শুক্রবার (১৫ মে) রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।  মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

তার মেয়ে একমি গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা ও সফরসঙ্গী আনোয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কোম্পানি ও তাঁর পারিবারিক সূত্রে তথ্য জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।

মিজানুর রহমান সিনহা বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্প উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন।  তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মিজানুর রহমান সিনহা। তার স্থানীয় বাড়ি ‘সিনহা হাউজ’ দীর্ঘদিন ধরে দর্শনীয় স্থান হিসেবে সকলের জন্য উন্মুক্ত।  তার পিতার নাম হামিদুর রহমান সিনহা ও মাতার নাম নূরজাহান সিনহা।  হামিদুর রহমান বাংলাদেশের ওষুধ ব্যবসায়ের অন্যতম পথিকৃৎ ও শিল্পগোষ্ঠী একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা।

সিনহা শৈশবে কলকাতায় বেড়ে উঠেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় স্নাতক সম্পন্ন করেন।

১৯৬৪ সালে সিনহা হাবিব ব্যাংকে চাকুরীর মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তার পিতার মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালে তিনি পিতার প্রতিষ্ঠিত একমি গ্রুপে যোগদান করেন। ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মিজানুর রহমান ছাত্রজীবনে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ২২ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বিএনপির মনোনয়নে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।