ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই এলাকায় এক নারী হোটেল শ্রমিকের লাশ উদ্ধার। বুধবার (১৩ মে) সকালে সায়াদাতিয়া সড়কের পাশের একটি ভাড়া বাসা থেকে খুশি খাতুন (২১) নামের ওই তরুণীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
খুশি খাতুন সাতক্ষীরার আশাশুনির আদালতপুর গ্রামের শহিদুল মোড়লের মেয়ে। তিনি সম্প্রতি পাগলাকানাই মোড়ে অবস্থিত ‘আন্তরিক হোটেল’ নামে খাবার হোটেলে কাজ নিয়েছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত খুশি খাতুন পেশায় একজন হোটেল শ্রমিক। মাত্র এক সপ্তাহ আগে তিনি পাগলাকানাই এলাকার এই বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
বাসার মালিক বেবি খাতুন জানান, খুশি খাতুন ও তাঁর স্বামী (রিকশাচালক) সোহাগ হোসেন বাসা ভাড়া নেন। মঙ্গলবার রাতে স্বামীর সঙ্গেই বাসায় ফেরেন খুশি। বুধবার সকালে অনেক বেলা হলেও না ওঠায় প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে খুশির লাশ পান। খুশিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর স্বামী পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা পুলিশের।
সদর থানার ওসি আসাদুউজ্জামান জানান, খবর পেয়ে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পলাতক সোহাগকে ধরার চেষ্টা চলছে। আজ বুধবার সকালে দীর্ঘক্ষণ ঘরের সামনের দরজা বন্ধ দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তারা ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়ির পেছনের খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে ঘরের মেঝেতে খুশির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গতকাল মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে হোটেলের কাজ শেষ করে বাসায় ফেরার সময় খুশির সাথে এক ব্যক্তিকে দেখা গিয়েছিল। খুশি ওই ব্যক্তিকে নিজের স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। ঘটনার পর থেকে ওই ব্যক্তিকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যা হত্যাকাণ্ডের রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে।